আমি ও আমার অরিন্দম

চন্দন ঘোষ



আমি ও আমার অরিন্দম
আপাতত আমার পেটটা বিশ্রিভাবৠফুলে আছে। বলতে লজ্জা নেই আমি প্রেগন্যাঠ¨à§à¦Ÿà¥¤ ছেলেরাও মাঝে মাঝে প্রেগন্যাঠ¨à§à¦Ÿ হয়,আপনারা হয়ত জানেন না। এখন আমার এই পেটের ভেতর একজন অরিন্দম বাস করছে। অরিন্দমরা আজকাল সবকিছুর মধ্যে বাস করে, এক একটা গোপন অসুখের মতো। ওই তো চৌরাস্তার মোড়ে একজন ঝকঝকে ছোকরার ঘাড়ের উপর বসে একজন অরিন্দম বাসের জন্যে অপেক্ষা করছে। আর ল্যাম্পপোঠ্টের ভেতর থেকে আর একজন অরিন্দম ওকে জুলজুল করে দেখছে। আর ওই মিনিস্কারৠটপরা মেয়েটার ভ্যানিটি ব্যাগে যে একটা অরিন্দম লুকিয়ে রয়েছে, মেয়েটা তা জানেই না। মুখ্যমন্তৠরীদের ভেতর অরিন্দমগুঠ²à§‹ একটু উদভ্রান্ত, বিরোধী নেতার ভেতরের অরিন্দমটা আবার রাগী। এইভাবে পৃথিবীময় জম্বির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে কোটি কোটি অরিন্দম। আমরা কেউ জানতেই পারছি না।

ব্যাপারটা বিপজ্জনক কিনা আমি ঠিক বলতে পারব না। তবে এভাবে চলতে থাকলে আমরা বোধহয় একদিন সবাই অরিন্দম হয়ে যাব।


সন্ধি
সিংহ বলল, তোদের বেঁচে থাকার কোনও মানেই হয় না। খালি পৃথিবীর ভিড় বাড়াচ্ছিসॠতোদের ব্যাঁ ব্যাঁ রবে আমার মাথার যন্তন্না হয়। ভেড়াদের মধ্যে বেশ মোটাসোটা সোমত্থ যেটি, বাঁকানো বাহারী শিং যার, সে বলে উঠল, হাসালেন স্যার, আমাদের বাঁচার কোনও মানে না থাকলে যে আপনার বাঁচাটাও ছোটো হয়ে আসে। সিংহ হালুম করে উঠল, বেয়াদব এত বড়ো সাহস, জানিস একসঙ্গে ধরে তোদের সবকটাকে সাবাড় করে দিতে পারি, নিদেন পোত্যেকের পিঠে একটা করে দানা ভরে দিতে পারি। ভেড়াটি সত্যিই বেয়াদব। সে ফ্যা ফ্যা করে হেসে বলে উঠল, ওই খানেই তো কবি কেঁদেছেন স্যার। সেটা আপনি কখনোই করবেন না। করতে পারবেন না আসলে। সেটা করলে চারপাঁচ দিন পর থেকেই আপনি না খেয়ে ধীরে ধীরে শুকিয়ে পটল তুলবেন। সিংহ জানত কথাটা। ভেড়া ছাড়া এই জঙ্গলে খাওয়ার আর কিছুই নেই। বাকিরা সবাই খাদক। একমাত্র ভেড়ারাই খাদ্য। তাই ওদের বাঁচিয়ে রাখাটাও জরুরি। শুধু মাঝে মাঝে চোখ রাঙাতে হবে। ওরা কতটা নিকৃষ্ট জানোয়ার তাও হম্বিতম্বি করে বলতে হবে। আর মাঝে মাঝে একটা দুটো করে গিলতে হবে। এটাই জঙ্গলের নিয়ম।

সে তাই গোঁজ হয়ে বলল, তোরা আজকাল কিন্তু টার্গেট পূর্ণ করতে পারছিস না। এদিকে তো গণ্ডা গণ্ডা বিয়োচ্ছিসॠ¤ মাঝে মাঝে দু-একটা বেশি সাপ্লাই দিতে পারিস না। ভেড়াটা পাত্তাই দিল না। বলল, পেট তো একটাই। আর বয়সও তো হচ্ছে। এবার নোলাটা একটু গোটান, স্যার। না হলে কিন্তু সংখ্যায় ভারী আমরা। আর ইদানীং শিং-এও বেশ ধার বেড়ে গেছে। সিংহ বুঝল, এবার লাটাই গোটানো সময় হয়েছে। শরীরটাও ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। সেটা তো আর সবাইকে বুঝতে দেওয়া যায় না।

তাই সে ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে বলে উঠল, ঠিকাছে, ঠিকাছে, অত রোয়াব কিসের। যা, আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। এখন দূর হ, চোখের সামনে থেকে। ভেড়ারাও জিতেছি ভেবে একটু সরে গিয়ে মনের আনন্দে ঘাস খেতে লাগল। সর্দার ভেড়া কিন্তু যা বোঝার আজকের মতো বুঝে ফেলেছে।